হরিদ্বার ধর্মসংসদে মুসলিম গণহত্যার বিদ্বেষ ভাষণের দায়ে গ্রেপ্তার ওয়াসিম রিজভী ও নরসিংহানন্দ

হরিদ্বার ধর্মসংসদে মুসলিম গণহত্যার বিদ্বেষ ভাষণের দায়ে গ্রেপ্তার ওয়াসিম রিজভী ও নরসিংহানন্দ

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: হরিদ্বারে হওয়া ধর্ম সংসদে মুসলিমদের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক ও উত্তেজনাপূর্ণ বিবৃতি দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার উত্তরাখণ্ড পুলিশ হরিদ্বার থেকে আটক করেছে ওয়াসিম রিজভি ওরফে জিতেন্দ্র ত্যাগীকে। যতি নরসিংহানন্দকেও পুলিশ আগেই গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে।

উত্তরাখণ্ড পুলিশ এর আগে জিতেন্দ্র ত্যাগী, যিনি আগে ওয়াসিম রিজভি নামে পরিচিত ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। হরিদ্বারে হওয়া এই সংসদ, যা ‘‌বিদ্বেষমূলক সংসদ’ নামে পরিচিত, হিন্দু নেতাদের এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই দেশজুড়ে এই নিয়ে সমালোচনার জড় বয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে‌ হিন্দু নেতারা সংখ্যালধুদের কটাক্ষ করে উস্কানিমূলক ও আপত্তিজনক বক্তব্য করে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।

আগেই হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে ধর্মান্তরিত জিতেন্দ্র নারায়ণ ত্যাগীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল উত্তরাখণ্ডে। হরিদ্বার কোতোয়ালিতে ত্যাগীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন গুলবাহার খান নামের এক ব্যক্তি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এদিন ত্যাগীকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। উল্লেখ্য, আগেই যতি নরসিংহানন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একই মামলায়। উত্তরাখণ্ড পুলিশ হিন্দিতে টুইট করে লেখেন, ‘‌একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে হিংসার উসকানি দেওয়া হয়েছিল সেদিন। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও পড়ে। সেই অভিযোগে ওয়াসিম রিজভি ওরফে জিতেন্দ্র ত্যাগীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে হরিদ্বার কোতোয়ালিতে। আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’‌

প্রসঙ্গত, উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে ধর্ম সংসদের সভায় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কথা বলার অভিযোগের মামলায় বুধবার উত্তরাখণ্ড সরকারকে নোটিস দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি এনভি রামণ, বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি হিমা কোহলির ডিভিশন বেঞ্চে ছিল এই মামলার শুনানি। সাংবাদিক কুরবান আলি ও পাটনা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অঞ্জনা প্রকাশের করা মামলার শুনানি ছিল বুধবার। গত ১৭ ডিসেম্বর হরিদ্বারে সেই বিতর্কিত ধর্ম সংসদের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে একাধিক ধর্মসংগঠনের পক্ষ থেকে অনেক প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন। ধর্ম সংসদের সেই সভায় ধর্মীয় সংগঠন গুলির প্রতিনিধিরা একের পর এক বিতর্কিত এবং উস্কানি মূলক বক্তব্য রাখতে থাকেন। তবে পুরো সভাটাই হয়েছিল একেবারে রুদ্ধদ্বার, যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। কেবল মাত্র আমন্ত্রিতরাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে যায় সেই ভিডিও।