আমরা ২০২৪ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারছি না! একঠিন সময়ে আমাদের একটা সুশাসক দরকার: দয়া করে আপনি সরে দাঁড়ান

আমরা ২০২৪ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারছি না! একঠিন সময়ে আমাদের একটা সুশাসক দরকার: দয়া করে আপনি সরে দাঁড়ান

বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক-সমাজকর্মী, ঔপন্যাসিক অরুন্ধতী রায়ের এই বিস্ফোরক লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে স্ক্রোল.ইন ওয়েব পত্রিকায়। লেখকের বক্তব্য অত্যন্ত জরুরি জ্ঞানে আমরা লেখাটি অনুবাদ করে পুনঃপ্রকাশ করলাম। লেখাটি অনুবাদ করেছেন সোহেল ইসলাম।

 

আমাদের একজন সুশাসক দরকার। বর্তমানে যা আমাদের কাছে নেই। আমাদের অক্সিজেন কমে আসছে। আমরা মারা যাচ্ছি। সাহায্যের পাশাপাশি আর কী কী করা উচিত, তা জানার জন্য আমাদের কাছে কোনও ব্যবস্থা নেই।

কী করা যেতে পারে, ঠিক এই সময়ে?

না, আমরা ২০২৪ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারছি না। আমার মতো মানুষেরা কখনও কল্পনাও করতে পারে না, যে তারা ব্যক্তিগতভাবে কোনও কিছুর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে সাহায্যের আবেদন করবে, বরং আমি এরকম কিছু করার চেয়ে কারাগারে যাওয়া বেছে নেব। কিন্তু আজ পরিস্থিতি এতটাই নাগালের বাইরে চলে গেছে যে বাড়িতে, হাসপাতালে, গাড়ি পার্কিংয়ে, বড় শহরে, ছোট শহরে, গ্রামে, বনে-জঙ্গলে, রাস্তাঘাটে আমরা মরে পড়ে রয়েছি। আমি, একজন সাধারণ নাগরিক, আমার দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে গর্ববোধ করছি। আমাদের মতো নাগরিকদের জন্য দয়া করে, স্যার, দয়া করে এবার আপনি সরে দাঁড়ান। অন্তত এখনকার জন্য, অনুরোধ করছি, আপনি পদত্যাগ করুন।

এই সঙ্কট আপনার তৈরি। আপনার দ্বারা এর সমাধান সম্ভব নয়। উল্টে আরও খারাপ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারেন আপনি। এই ভাইরাস ভয়, ঘৃণা আর অজ্ঞতার পরিবেশকে বাড়িয়ে তুলেছে। আপনি যখন কথা বলেন, অজ্ঞতার পিঠ চাপড়ে দেন, তখন তার বাড়বাড়ন্ত আরও বৃদ্ধি পায়। আপনি যখন দেশের মিডিয়াকে এমন পর্যায়ে পরিচালনা করেন তখন তা দেশের ক্ষেত্রে এক বিপর্যয় তৈরি করে। দেশের আসল সত্যটা তো কেবল এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেই প্রকাশ পাচ্ছে। আপনি এমন একজন অক্ষম প্রধানমন্ত্রী, যিনি শাসনের পুরো সময়কালে, প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে একটাও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি, এমনকি দেশের এরকম চরম পরিস্থিতিতেও নয়।

আপনি সরে না দাঁড়ালে, দেশের হাজার হাজার মানুষের অকালে প্রাণ যাবে। সুতরাং ঝোলা নিয়ে আপনি এবার বেরিয়ে পড়ুন। আপনি ধ্যান আর নিঃসঙ্গতার সঙ্গে খুব সফলভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। এমনটা করেও দেখিয়েছেন আপনি। যদি এত মৃত্যুতেও আপনি চুপ থাকেন, তা আমাদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

আপনার পার্টিতে এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা আপাতত আপনার জায়গা সামলাতে পারবেন। যাঁরা জানেন এই সঙ্কটময় মুহূর্তে কীভাবে রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে হয়। নিশ্চয় এমন কেউ আছেন আপনার দলে, যিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অনুমোদনে― সরকার এবং একটা সঙ্কট পরিচালনা কমিটির প্রধান হতে পারেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন, এতে করে কমিটিতে সব দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। কংগ্রেস জাতীয় দল হওয়ায়, তারাও কমিটিতে থাকতে পারেন। এছাড়াও বিজ্ঞানী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, অভিজ্ঞ আমলারাও থাকতে পারেন কমিটিতে। আপনি বুঝতেই চাইছেন না, এটাই গণতন্ত্র। এই হিসেব মেনেই গণতন্ত্র চলে। আপনার বিরোধীশূন্য মনোভাবের গণতন্ত্রে কোনও জায়গা নেই। আপনার দেশ পরিচালনার নীতি স্বৈরশাসন নামে পরিচিত। আর এই কোভিড-১৯ ভাইরাসও স্বৈরশাসনকেই ভালবাসে।

আপনি যদি এখনই পদত্যাগ না করেন, তাহলে এই ক্রমবর্ধমান সঙ্কটময়তা যেভাবে একটা আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত হচ্ছে, বিশ্বের কাছে হুমকি হিসেবে সামনে আসছে, আপনার অক্ষমতাগুলো বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ করে দেবে এবং একটা বৈধ অজুহাত খুঁজে পাবে তাঁরা― এখনও সময় আছে, সমস্যাটা বুঝুন এবং পদক্ষেপ নিন। তা না হলে সার্বভৌমত্বের জন্য আমাদের কঠোর লড়াইয়ে আপস করতে হবে। আবার আমরা একটা কলোনিতে পরিণত হব। যার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। একে অবহেলা করবেন না।

অতএব, দয়া করে সরে দাঁড়ান। এই পদক্ষেপই হবে আপনার সবচেয়ে দায়িত্বশীল কাজ। আপনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নৈতিক অধিকারও হারিয়েছেন।