মোঘলরা ডাকাত ছিল? আসুন দেখি এই ছিনতাইকারি মুঘলরা কীভাবে দেশকে লুট করে!

মোঘলরা ডাকাত ছিল? আসুন দেখি এই ছিনতাইকারি মুঘলরা কীভাবে দেশকে লুট করে!

পাঠকের কলমে: মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বিশ্বের জিডিপির এক চতুর্থাংশ ছিল ভারতের।আজ আমেরিকা যে মর্যাদা পাচ্ছে তার চেয়েও পুরো বিশ্বজুড়ে ভারতের মার্যাদা ছিল অনেকগুণ বেশি।

আকবরের রাজত্বকালে ভারতের দেশীয় পণ্য উৎপাদন, ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথের সাম্রাজ্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি ছিল। অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ অ্যাঙ্গাস ম্যাডিসনের মতে, মোগল ভারতের মাথাপিছু ইনকাম তৎকালীন ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের চেয়েও অনেকগুন বেশি ছিল।

শাহজাহানের সময়ে, ভারতের স্থাপত্য পুরো পৃথিবীতে শীর্ষে ছিল। সেই সময় ভারতের স্থাপত্য আজকের দুবাইয়ের মতো বিখ্যাত ছিল। ১৬৪০ খ্রিস্টাব্দে এক শাহজাহানী রুপির দাম আজকের ভারতীয় রুপির চেয়ে প্রায় 500 গুণ বেশি ছিল। যা এখনও পুরো বিশ্বের যে কোনও দেশের মুদ্রার দ্বিগুণ।

ইউরোপীয় ভ্রমণকারীদের ঐতিহাসিক দলিলগুলিতে দেখা যায় যে, সেই সময় ভারতের মুঘল সম্রাজ্যের চাকচিক্য এবং ঐশ্চর্য দেখে ইউরোপীয়দের চোখ, মুখ হাঁ হয়ে যেত। বর্তমানে প্যারিস এবং নিউইয়র্কের যে মর্যাদা রয়েছে সেই সময়ে লখনউ, দিল্লি এবং হায়দ্রাবাদ সেই মার্যাদার অধিকারী ছিল।

1947 সালের পরে, হায়দ্রাবাদের রাজপরিবার নিজামের সর্বস্ব লুট হয়ে যাওয়ার পরেও ভারতের পুরো জিডিপির চারগুণ সম্পত্তি তখনও ছিল। পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধের সময় হাইদ্রাবাদের শেষ নিজাম এই সমস্ত সম্পদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন।কয়েক কুইন্টাল সোনা হায়দরাবাদ বিমানবন্দর থেকে প্লেনে ভরে নিয়ে যায়।

এই সম্রাটরাও এমন অদ্ভুত ডাকাত ছিলেন যারা সমস্ত ধনসম্পদ, শৌর্য, লাল দুর্গ, তাজমহল ছেড়ে এই ভারতের জমিতে বিলীন হয়ে গেছেন। আজ, সেই একই লাল দুর্গে দাঁড়িয়েবিঃদ্রব্য- নাগপুরের ইতিহাসে তাদের কে ডাকাত বলা হয়। তাদের গড়া স্থাপত্য শহরের নাম বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা করে চলেছে। এটি কাপুরুষতার লক্ষণ।

ইতিহাস কখনো পরিবর্তন করা যায় না, তা যতোই মিথ্যা প্রচার করা হোকনা কেন।

আসলে দেশের আসল ডাকাতরা হলেন গেরুয়া সন্ত্রাসীরা যারা মোগলদের নাম ছিনিয়ে নিয়ে তাদের নামে রাখছে।

ছবি- মোঘল আমলের অখণ্ড ভারতবর্ষ, যা আজ পর্যন্ত কেউ গড়তে পারেনি। ওইসব সম্পদ থেকে কেন্দ্র সরকার কোটি কোটি টাকা রোজগার করে আবার মুসলমানকে বদনাম করে ওদের লজ্জা থাকা দরকার। তৈরি তো দূরের কথা বিক্রি করার ওস্তাদ মোদি সরকার।

বিঃদ্রঃ- নাগপুরের ইতিহাস বই এ এসব তথ্য পাবেন না।

কলমে : প্রণব দাস!