পশ্চিমবঙ্গ সরকার পোষিত মাদ্রাসাগুলোর একাল-সেকাল: বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম

পশ্চিমবঙ্গ সরকার পোষিত মাদ্রাসাগুলোর একাল-সেকাল: বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম

পাঠকের কলমে ,বঙ্গ রিপোর্ট: বিশেষ কোন সম্প্রদায় সার্বিকভাবে পিছিয়ে গেলে , সেই জাতির উন্নতি সম্ভব নয় ৷ প্রান্তিক গোষ্ঠীর ও পিছিয়েপড়া মুসলমান জনগোষ্ঠীর উন্নতিতে ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য মাদ্রাসা শিক্ষার কোন বিকল্প নেই ৷ বিদ্যালয় শিক্ষার সমান্তরাল শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে পশ্চিম বঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা চালু আছে ৷ তবে “মাদ্রাসা” শব্দের অর্থেও বিদ্যালয় I পশ্চিম বঙ্গে দুই ধরনের মাদ্রাসা শিক্ষা রয়েছে —–

১. সরকার পোষিত হাইস্কুল শিক্ষার সমান্তরাল মাদ্রাসা শিক্ষা ৷ এখানে – সাহিত্য ,সমাজ বিদ্যা , বিজ্ঞান , অংক , আরবী সাহিত্য , ইতিহাস ও ইসলামীক ইতিহাস পড়ানো হয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যাসিক সমতুল শংসাপত্র দেওয়া হয় ৷
২. খারেজি বা নেজামিয়া বা হাফেজিয়া মাদ্রাসা । এখানে কোরান শরীফ হেফজ এবং আরবী , উর্দু ,হাদিস ,তাফসির ,ফেকাহ্ , ফারায়েজ , অংক , বিজ্ঞান ,ইংরেজি সহ আরবী ভাষায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করলে মৌলানা ডিগ্রি দেওয়া হয় | অবশ্য এটি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান |

মাদ্রাস সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছিল , তা হঠাৎ স্তদ্ধ হয়ে যাওয়াতে আমি বাক্ রুদ্ধ | মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে আগত শিক্ষক মহাশয়গণ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়ে ডাক্তার , ইঞ্জিনিয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন ৷ মাদ্রাসা থেকে পাস করে এখন অনেকেই ইঞ্জিনিয়ার-ডাক্তার হয়েছেন ৷ তবে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে —- কমিটি নয় , মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত , এর জন্য সরকার কে উদ্যোগী হতে হবে ৷

তবে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট হয়েছে একটি মাত্র অরাজনৈতিক – সামাজিক শিক্ষামূলক সংগঠন —- ” বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম ” ; যা বর্তমানে `ফোরাম ` নামে পরিচিত ৷ তবে যাই হোক , ফোরামে আশ্রয় পেয়ে বেশ কিছু চাকুরীপ্রার্থী স্বপ্ন দেখা শুরু করে ; মহান স্রষ্টা এদের স্বপ্ন পূরণও করেছেন । এদের বেকারত্বের হাহাকার যেন আয়নায় প্রতিবিম্ব পড়ার মতো ফোরামের ফেসবুক ডিসপ্লেতে ধরা পড়েছিল , এমন কি এখনও পড়ছে । আর কতদিন এই আর্তনাদ? আর কতদিন মাদ্রাসা নিয়ে ধূলি খেলা ? মাদ্রাসা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ হোক ৷ সমাধানে সচেতন নাগরিকগণ এগিয়ে আসুন ৷ সচেতন নাগরিক মাত্রই অবহিত আছেন যে, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশেনর পুনঃবহাল সহ শিক্ষক নিয়োগ ও বকেয়া কাজের দাবীতে ~”বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম” একটি অরাজনৈতি শিক্ষক সংগঠন আইনি পথে ও বিভিন্ন ভাবে মিটিং-সমাবেশের মাধ্যমে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ৷

‌আল্লাহর রহমতে ও ফোরামের আন্দোলনের ফলে ষষ্ঠ এসএলএসটির লিখিত পরীক্ষার রেজাল্ট ও ইন্টারভিউ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে ৷ এমতাবস্থায় প্রতিটি সচেতন নাগরিক ,বুদ্ধিজীবী ,সংখ্যালঘু দরদী মানুষের উচিত —– ফোরামের পাশে দাঁড়িয়ে “মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনে”র মাধ্যমে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের দাবীকে তীব্র থেকে তীব্রতর করা ৷

এই প্রসঙ্গে জেনে রাখা দরকার , মাদ্রাসা স্কুল গুলিতে শুধুমাত্র মুসলিম পরিবারের ছেলে মেয়েরাই পড়াশুনা করেনা, অনেক অমুসলিম ছাত্র-ছাত্রীও পড়াশুনা করে। এমন কী অনেক এলাকায় হাইস্কুল না থাকার ফলে, মাদ্রাসা থেকে অাধুনিক শিক্ষা লাভ করাই একমাত্র ভরসা। ফলে প্রকৃত শিক্ষার অভাব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বহু দুঃস্থ ছাত্র-ছাত্রী। প্রসঙ্গক্রমেএকটি প্রশ্ন এসেই যায় — ইংরেজি মাধ্যম মাদ্রাসায় যদি পিএস সি র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করা যায়৷

তাহলে বাংলা মাধ্যম মাদ্রাসায় নয় কেন ? তাই মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন পুনরায় চালু হওয়া একান্তই দরকার মাদ্রাসায় সুষ্ঠু ভাবে পঠন-পাঠনের জন্য , অশিক্ষার অন্ধকার দূর করতে ,সর্বোপরি শিক্ষার আলো দিকে দিকে প্রোজ্বলিত করতে ৷ কেননা , শিক্ষাকে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দিতে হলে — মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রাণ ফিরিয়ে দিতেই হবে ; আর এই শুভ কাজে জাতী-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আপামর দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরীক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে ৷

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা কোন বিচ্ছিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা নয়। এইভাবে প্রাচীন শিক্ষা ব্যবস্থা কে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না।শিক্ষার স্বার্থে আমাদের সকল শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এগিয়ে আসার সময় এসেছে রামকৃষ্ণমিশন মাইনোরিটি হলে ওদের নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে হয়,কিন্তু মাদ্রাসার নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে উচিত নয়,কারণ ওদের মতো মাদ্রাসা কমিটি হতে পারেনি।কমিসনের মাধ্যমে যে জাতি ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছিল,সেটাকে বন্ধ হতে দেওয়া যায় না ৷ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ হলে অর্থ ও রক্ত দুই যাবে,সুতরাং অনতিবিলম্ব তা বন্ধ করে মুখ্যমন্ত্রীকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা উচিত ।

ধন্যবাদান্তে
মোসাররাফ হোসেন মিলু
সহকারী শিক্ষক ,
বাংলাভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ৷
আই.সি.আর. হাই মাদ্রাসা(উচ্চ মাধ্যমিক, বিজ্ঞান ও কলা বিভাগ )
লালগোলা , মুর্শিদাবাদ