এক সপ্তাহের মধ্যে সংখ্যালঘু দপ্তরের মন্ত্রী ছাত্রদের সমস্যার কথা না শুনলে মহাকরণ অভিযানের ডাক আলিয়ার ছাত্রদের

এক সপ্তাহের মধ্যে সংখ্যালঘু দপ্তরের মন্ত্রী ছাত্রদের সমস্যার কথা না শুনলে মহাকরণ অভিযানের ডাক আলিয়ার ছাত্রদের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অন্য প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাপ্য সম্পূর্ণ অর্থ সঠিক সময়ে প্রদানের দাবিতে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের লাগাতার এ পর্যন্ত ৫০ দিনের বিক্ষোভ অবস্থান সম্পর্কে আশা করি আপনারা অবগত আছেন। একাধিক ছাত্র অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে সাময়িক ভর্তি হলেও ছাত্রছাত্রীদের দিকে ফিরেও দেখেনি সংখ্যালঘু দফতর। সমস্যা সমাধানে উদাসীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়েছে- আপনাদের অবগত করতে চাই কলকাতার বুকে শিক্ষার পরিকাঠামো চেয়ে অবস্থানের ৫০ দিন পরেও দফতরের কোনও আধিকারিক, মন্ত্রী ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেননি। আমরা দফতরে ডেপুটেশন, গণ মেল করে আমরা আমাদের বক্তব্য জানিয়েছি। এতদসত্বেও, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা না করেই সংখ্যালঘু দফতরের মাননীয় মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউটাউন ক্যাম্পাসে আধিকারিক দের সঙ্গে বৈঠক করেন। আমরা ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে উপস্থিত হলে নিজেদের ক্যাম্পাসেই বহিরাগতদের দ্বারা আক্রান্ত হই। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা দরকার একটি সংবাদ মাধ্যম ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মাননীয় মন্ত্রীর আলোচনা দাবি করলেও কোনরূপ আলোচনা আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে হয়নি। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঘটনার পরবর্তীতে আক্রান্ত ছাত্রছাত্রীদের গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয়, মাননীয় মন্ত্রী যখন গাড়িতে যাচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরেই তার উপস্থিতিতে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আক্রান্ত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনোরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, এবং দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমরা আন্দোলনের বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনাদের সামনে রাখছি।

১) আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অন্য প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের খবর সম্পর্কে নিশ্চয়ই আপনি অবগত আছেন। এই খবর, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান-প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, শুভাকাঙ্ক্ষীদের আহত করেছে। বর্তমানে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত হোস্টেল নেই, নেই খেলার মাঠ-স্টাফ কোয়াটার। এতদসত্বেও, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য খেলার মাঠ, হোস্টেল এর ব্যবস্থা না করেই, প্রস্তাবিত সেই একই জমির একটা অংশ অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার খবরে আমরা মর্মাহত। কোনও কোনও মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে যে জমি নিয়ে দফতরের তরফে এমন কোনও কথা হয়নি, কিন্তু যদি তা না হয় তবে আমাদের প্রশ্ন কিভাবে কোনও আলোচনা ছাড়াই একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান অন্য একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে একটি দফতরের আধিকারিক এর নাম করে এই বিষয়ে চিঠি লিখতে পারে? আমরা চাই সামাজিক স্বার্থে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হোক, কিন্তু কোনও প্রতিষ্ঠানকে বঞ্চিত করে তা হতে পারে না। আমরা দাবি করছি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও পিছিয়ে পড়া সমাজের শিক্ষার উন্নতির স্বার্থে দ্রুত ঐ জমিকে দখলমুক্ত করে সেখানেই হোস্টেল, খেলার মাঠ নির্মাণ করতে হবে।

২) দুঃখের হলেও একথা সত্যি যে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে উদাসীন সংখ্যালঘু দফতর, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উভয়েই। সেই উদাসীনতার ফলেই আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের প্রবেশ দ্বারে গরু বেঁধে রাখার ছবি দেখতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমের সুবাদে সেই ছবি হয়তো আপনাদের চোখেও পড়েছে। কিন্তু মেট্রোপলিটন শহর কলকাতার বুকে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন বেহাল দশা কেন? কেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সংখ্যালঘু দফতর এত উদাসীন ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পাস নিয়ে? ২৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও তার ছাত্রছাত্রীদের প্রতি এত উদাসীনতা কেন? প্রশ্ন থেকেই যায়। অমরা দাবি রাখছি অবিলম্বে তালতলা ক্যাম্পাসকে অবিলম্বে হেরিটেজ ঘোষণা করে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। তালতলা ও AP বিভাগের সম্পত্তি উল্লেখ করে প্রাচীর নির্মাণ করতে হবে, থিয়োলজি সহ সমস্ত বিভাগে উপযুক্ত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। তালতলা ক্যাম্পাসে উপযুক্ত লাইব্রেরী, অন্যান্য সমস্ত ক্যাম্পাসে শিক্ষার সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে পূর্বের প্রতিশ্রুতি মতো রোকেয়া ভবনকে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তালতলা ক্যাম্পাসের ছাত্রিনিবাস ঘোষণা করতে হবে।

৩) সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে অবিলম্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া WBCS কোচিং, পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শুরু করতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের দাবি মেনে NET, SET, GATE কোচিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে ন্যাক ভিজিট করাতে হবে। আরও বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রীকে পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে অবিলম্বে সংখ্যালঘু দফতরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে থাকা স্টাডি সেন্টার গুলির উপযুক্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন করে সেগুলিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে কলেজে রূপান্তরিত করতে হবে। এই সমস্ত ছাত্র কল্যাণ মূলক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংখ্যালঘু দফতরকে দিতে হবে। সংখ্যালঘু দফতরকে অবিলম্বে বাজেটে বরাদ্দ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাণ্ডে থাকা টাকা ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে।

৪) ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে একদিকে গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি, অন্যদিকে তদন্তের অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি অর্থ বর্ষের প্রাপ্য বাজেট নির্ধারিত অর্থ বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা চাই তদন্ত সঠিক প্রক্রিয়ায় এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে হোক, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক। কিন্তু অতীতে তীব্র ছাত্র আন্দোলনের জেরে তদন্ত কমিটির দেওয়া ‘ফ্যাক্ট ফাইণ্ডিং কমিটি’র রিপোর্টের ভিত্তিতে আজ পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা ছাত্রছাত্রীদের তা অজানা।
এমনকি ‘ফ্যাক্ট ফাইণ্ডিং কমিটি’র রিপোর্টে উল্লেখিত একটি ফাইল পাশ করিয়ে নেবার চেষ্টার অভিযোগও এসেছে সামাজিক মাধ্যমে। আমরা আশঙ্কা করছি, এভাবেই আরও একটি কমিটি আর তার রিপোর্ট অকার্যকরী হয়েই থেকে যাবে? আর প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ায় শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকাঠামো জনিত প্রভূত ক্ষতির সম্মুখীন ছাত্রছাত্রীরা, তাদের ভবিষ্যতের দায় কে নেবে?

আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি করছি পূর্বের দীর্ঘ ছাত্র আন্দোলনের চাপে হওয়া ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্ট ও বর্তমানে সরকারি স্তরে চলমান তদন্তের রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে, এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৫০ দিনের এই দীর্ঘ আন্দোলনে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের বহু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আমাদের এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন। আজ আমরা আপনাদের মাধ্যমে তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। বৃহত্তর ছাত্র সমাজকে, বুদ্ধিজীবী অংশের মানুষদের আমাদের পাশে দাঁড়াবার আবেদন জানাচ্ছি আমরা। একই সঙ্গে আমরা আজ এই প্রেস কনফারেন্স এর মাধ্যমে জানাতে চাই দীর্ঘ ৫০ দিন শান্তিপূর্ণ অবস্থান, একাধিক ছাত্রছাত্রীর হাসপাতালে ভর্তি হবার পরেও সংখ্যালঘু দফতর বাঁ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসছেন না, উল্টে আক্রান্ত হতে হচ্ছে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের। আক্রমণকারীদের কোনও শাস্তি হচ্ছে না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমরা অবরোধ আন্দোলন, অনশন এর মতো পথ বেছে নিতে বাধ্য হব। এবং তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংখ্যালঘু দফতর।