যাদের ছাড়া ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন কল্পনা করা যায় না: তাদের অন্যতম ছিলেন মাওঃ হিফজুর রহমান

যাদের ছাড়া ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন কল্পনা করা যায় না: তাদের অন্যতম ছিলেন মাওঃ হিফজুর রহমান

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ইতিহাসের আলোকিত মানুষ হিসেবে অনেকের নামই আমরা উচ্চারণ করে থাকি। কিন্তু ইংরেজ খেদাও আন্দোলনের আপসহীন নেতা, কিংবদন্তি আলেমেদ্বীন মাওলানা হিফজুর রহমান সিওহারবীকে আমরা তেমন আলোচনা করি না, লেখায়ও তুলে আনবার চেষ্টা করি না। এ কথা প্রণিধানযোগ্য যে, আওলাদে রাসূল সাইয়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানী, মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধী, মাওলানা হিফজুর রহমান সিওহারবী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ আলেমদের বাদ দিয়ে উপমহাদেশের স্বাধীনতা কল্পনা করা যায় না। ভারত থেকে ইংরেজ তাড়াতে কী পরিমাণ প্রাণান্তকর চেষ্টা তারা করেছেন এটা বলে শেষ করা যাবে না।

হিফজুর রহমান সিওহারবী স্বাধীন ভারত প্রতিষ্ঠার পর মুসলমানদের জন্য রোড ম্যাপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

সংবিধান সভার সদস্য নির্বাচিত স্বাধীন দেশ গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। দেশে মুসলমানদের বসবাসের কী নজরিয়া হবে তা নির্ধারণে হিফজুর রহমান সিওহারবী সাহসী ভূমিকা পালন করেন। ভারত যে ধর্মনিরপেক্ষ আর মুসলমানদের জন্য অতীব জরুরি এই বিষয়টি সংবিধানে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপনে বড় ভূমিকা ছিল তার। মুসলমানগণ স্বমহিমায় স্বমর্যাদায় যেনো ভারতে বসবাস করতে পারে সেই বিচার-বিশ্লেষণকল্পে সম্মানজনক এক অবস্থান তৈরী করতে সমর্থ হয়েছিলেন তিনি। যে কারণে ভারতীয় মুসলমানগণ কখনোই তাকে ভুলতে পারবেন না। ভুলতে পারবেন না তার লেখালেখির কারণেও। অসংখ্য পুস্তক লিখে দারুণ অবদান রেখেছেন এই বিদগ্ধ আলেমেদ্বীন।

মাওলানা হিফজুর রহমান সিওহারবী ১০ জানুয়ারি ১৯০১ সালে সায়োহারা জেলা বিজনর শহরের মাওলানা শামসুদ্দিনের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । হিফজুর রাহামান কলকাতায় পরিচালিত কংগ্রেস এলাকায় গণ নিয়ন্ত্রণ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। সুভাষ চন্দ্র বসু পরিচালিত আন্দোলনেও এভাবে সংযুক্ত হন মাওলানা সিওহারবী।

মাওলানা হিফজুর রহামান তেহরিক-ই-তেহরিক এর খিলাফত আন্দোলনে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে নিজেকে জানান দেন। এরপরই তিনি কংগ্রেসে প্রবেশ করেন।

জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর পরিচালিত যত আন্দোলন আছে সব আন্দোলনেই বড় ভূমিকা পালন করেন মাওলানা হিফজুর রহামান সিওহারবী।

মাওলানা হিফজুর রহামান কংগ্রেস ১৯৪৯ সালের মে’তে হাপুর-খুর্জা আসনে মনোনয়ন পেয়ে পি. বিধানসভার সদস্য হন।

১৯৪৯ সালে রিজওয়ান উল্লার শূন্য আসন নিয়ে বিধানসভা সদস্য এবং সংসদ সদস্য ১৪ জানুয়ারি ১৯৫০ সালে স্বাধীনতার পর কংগ্রেসের টিকিটে ১৯৫২ সালে জানুয়ারিতে কংগ্রেসের টিকিটে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে আমরোহা অঞ্চল থেকে লোকসভার সদস্য নির্বাচনে জয়ী হন।

মাওলানা হিফজুর রহামান সিওহারবী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে আট বছর জেল খেটেছেন। স্বাধীনতা আন্দোলনে তারপরও তিনি কোনোক্রমেই পিছপা হননি। ১৯২২-১৯৪৭ পর্যন্ত একটানা ২৫ বছর ইংরেজ বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। লাখো লাখো আলেম উলামা ও সাধারণ মুসলমানগণকে সঙ্গে নিয়ে এ লড়াই চালিয়ে যান। কেবল একজন ইংরেজবিরোধী যোদ্ধাই ছিলেন না তিনি। তিনি একজন ইসলামী স্কলার, একজন ইতিহাসবিদ, একজন প্রখর, ধীমান ও বিদগ্ধ লেখক এবং একজন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। ভারত যাকে স্বাধীনতা দিবসে স্মরণ করে।

১৯৬২ সালের ২ আগস্টের সকালে মাওলানা হিফজুর রহামান ইহধাম ত্যাগ করেন। লাখো লাখো মানুষের ভালোবাসায় তিনি সমাহিত হন ভারতের মাটিতে। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাঁর অকৃপণ অবদান স্মরণে থাক এই আশা রইল।