গোড়ায় গলদ! দলের সঙ্গে মতবিরোধ: শপথ নিলেন না বিজেপির দিনহাটা ও শান্তিপুরের দুই বিধায়ক

    গোড়ায় গলদ! দলের সঙ্গে মতবিরোধ: শপথ নিলেন না বিজেপির দিনহাটা ও শান্তিপুরের দুই বিধায়ক

    নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: একুশের যুদ্ধের হার-জিত নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে প্রায় ৫ দিন আগে। গতকাল ও আজ ছিল রাজ্য বিধানসভা ভবনে নবনির্বাচিত ২৯১জন বিধায়কের শপথ গ্রহণের দিন। কিন্তু সেই শপথ গ্রহণের নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরে দেখা গেল ২৮৯জন বিধায়ক শপথ নিয়েছেন। ২জন বিধায়ক শপথে নেননি। এই দুইজন আর কেউ নন, বিজেপির দুই সাংসদ জগন্নাথ সরকার ও নিশীথ প্রামাণিক। প্রথমজন রানাঘাটের সাংসদ ও দ্বিতীয়জন কোচবিহারের সাংসদ। জগন্নাথবাবু বিতর্কিত বেশ কিছু ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হলেও নিশীথ কার্যত কোচবিহারে বিজেপির মুখ হয়ে উঠেছেন। এবারে দুইজনই বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করাছিলেন, এবং দুইজনই জয়ী হয়েছেন। জগন্নাথবাবু জিতেছেন নদিয়া জেলার শান্তিপুর থেকে ও নিশীথ জিতেছেন কোচবিহার জেলার দিনহাটা থেকে। তাই তাঁরা দুইজনই এখন সাংসদ ও বিধায়কও। কিন্তু দুইজনই বিধানসভায় এসে বিধায়ক হিসাবে শপথ না নেওয়ায় জোর জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে।

    নিয়মানুসারে নিশীথ ও জগন্নাথ দুইজনই আগামী ৬ মাস পর্যন্ত সাংসদ ও বিধায়ক পদ ধরে রাখতে পারবেন। কিন্তু তার মধ্যেই এই দুটি পদের মধ্যে যে কোনও একটি থেকে তাঁদের পদত্যাগ করতে হবে। তাঁদের ছেড়ে দেওয়া আসনে আবারও নির্বাচন হবে, যা উপনির্বাচন হিসাবেই চিহ্নিত হবে। আর এখানেই বেঁধেছে গোল। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, জগন্নাথ ও নিশীথ দুইজনই সাংসদ পদ ছাড়তে নারাজ। কার্যত তাঁরা বিধানসভা নির্বাচনেও লড়তে চাননি। দল থেকেই তাঁদের জোর করে ভোটে প্রার্থী করা হয়েছিল। সেই ভোটযুদ্ধে দুইজনই জিতেছেন তবে নিশীথ জিতেছেন মাত্র ৫৭ ভোটে যা কার্যত নৈতিক হারের সামিল। আবার বিজেপিও বাংলা দখলে ব্যর্থ হয়েছে। এই অবস্থায় নিশীথ ও জগন্নাথ কেউই সাংসদ পদ ছাড়তে চান না। কেননা এই পদে থাকলে বেশি ক্ষমতা ভোগ করার পাশাপাশি বেতনও অনান্য সুযোগ-সুবিধাও বেশি পাওয়া যায়। রাজনৈতিক্ম ভাবেও জেলার রাজনীতিতে বেশ ভালই ছড়ি ঘোরানো যায় যা বিধায়ক হয়ে গেলে আর ধরে রাখতে পারবেন না নিশীথ ও জগন্নাথ। তাই তাঁরা পদ ছাড়তে নারাজ। কিন্তু বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও সঙ্ঘ পরিবার উভয়েই চাইছে এই দুইজনই বিধায়কের দায়িত্ব পালন করুক, সাংসদ পদ থেকে অব্যাহতি নিন।

    এর পিছনেও কারন রয়েছে। শান্তিপুর ও দিনহাটা থেকে জগন্নাথবাবু ও নিশীথ জিতলেও সেই জয়ের ব্যবধান বেশি নয়। নিশীথ জিতেছেন মাত্র ৫৭ ভোটে আর জগন্নাথবাবু জিতেছেন ১৫ হাজারের কিছু বেশি ভোটে। এই দুই আসন থেকে দুই বিধায়ক ইস্তফা দিলে সেখানে উপনির্বাচন হবে। সেই উপনির্বাচনে বিজেপি যে জিতবেই তেমন কথা জোর দিয়ে কেউ বলতে পারছে না। বরঞ্চ উপনির্বাচনে এই দুই আসনে তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনাই দেখছেন সকলে। কিন্তু নিশীথ কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্র থেকে ও জগন্নাথ রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে ইস্তফা দিলে সেখানে যদি উপনির্বাচন হয় তাহলে সেখানে বিজেপি জিতে যেতে পারে। কেননা একুশের ভোটযুদ্ধে ওই দুই লোকসভা কেন্দ্রেই বিজেপি বেশ ভালো ভোটেই এগিয়ে রয়েছে। তাই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হিসাব কষেই চাইছে নিশীথ ও জগন্নাথ তাঁদের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিধায়ক পদ ধরে রাখুক। তাতে ৪টি আসনই বিজেপি ধরে রাখতে পারবে। কিন্তু তাতে নারাজ জগন্নাথ ও নিশীথ। আর তার জেরেই তাঁরা দুইজনই সম্ভবত বিধানসভায় এসে শপথ নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন।