যোগী সরকারের নতুন আইন: ওয়ারেন্ট অর্ডার ছাড়াই  যাকে তাকে তল্লাশি ও গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ

যোগী সরকারের নতুন আইন: ওয়ারেন্ট অর্ডার ছাড়াই  যাকে তাকে তল্লাশি ও গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: বিরোধীদের একাংশ বলেন, উত্তরপ্রদেশের ত্রাস এখন গুণ্ডারা নয়, পুলিশ! তার কারণ হিসেবে একের পর এক এনকাউন্টার, কারণ ছাড়াই বিরোধীদের হেনস্থার মতো অভিযোগ উঠেছে আগেই। এবার পুলিশের জন্যে আরও ‘দরাজহস্ত’ হলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। পুলিশের জন্যে আর মাস তিনেকের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশে নিয়োগ করা হবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সেস ( এসএসএফ)। কী কাজ হবে এই বাহিনীর? জানা গিয়েছে, যে কোনও ব্যক্তিকে কোনওরকম ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করা, যে কোনও জায়গায় অনুমতি ছাড়াই তল্লাশি করার ক্ষমতা থাকবে এই বাহিনীর। গোটা পরিকল্পনাটাই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মস্তিষ্কপ্রসূত বলে খবর।

জানা গিয়েছে, রাজ্যের নানা আদালত, সরকারি অফিস, ধর্মীয় স্থান, মেট্রো, এয়ারপোর্ট-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মোতায়েন থাকবেন এসএসএফ জওয়ানরা। উত্তরপ্রদেশের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব ( স্বরাষ্ট্র) অবনীশ কুমার আওয়াস্থি জানিয়েছেন, পুলিশের এই বিশেষ বাহিনীর হাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়ের সাহায্যেই এই বিশেষ বাহিনী প্রস্তুত করা হচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশের বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিলও পাশ হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের ডিজিপিকে ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত বিষয়ে কার্যকর করতে রিপোর্ট তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রথমে পাঁচ ব্যাটেলিয়নের এক-একটিতে ১৯১৩ জন করে পুলিশ থাকবেন। প্রথম ধাপে প্রায় দশ হাজার জওয়ান নিয়োগ করা হবে। এর জন্যে খরচ পড়বে ১৭৪৭ কোটি টাকা।

যদিও বিরোধীরা বলছেন, এমনিতেই পুলিশকে ব্যবহার করে নিজের খেয়ালখুশি মতো কাজ চালাচ্ছেন যোগী আদিত্যনাথ। এই পরিস্থিতিতে বিপুল ক্ষমতা দিয়ে নতুন বাহিনী তৈরি হলে কোনও কিছুতেই আর বাঁধ থাকবে না। সম্প্রতি সরকারি পরিসংখ্যানেই উঠে এসেছে ক্ষমতায় আসার পর থেকে যোগীর রাজে উত্তরপ্রদেশে মোট ৬২০০টি এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে। আর তাতে মৃত্যু হয়েছে মোট ১২৪ জনের!

অবশ্য সরকারি হিসেবে এক্ষেত্রে পরিসংখ্যানকে ইতিবাচক করেই দেখানো হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ৬২০০টি এনকাউন্টারে ১৪ হাজারের বেশি অপরাধী গ্রেফতার হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২৩০০ অপরাধী ও প্রায় ৯০০ পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। বিকাশ দুবের এনকাউন্টারের পর উত্তরপ্রদেশের এডিজি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, দুষ্কৃতী দমনে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। কাউকে ছাড়া হবে না। সেই সূত্রেই জানা যায়, রাজ্যের প্রতিটি জেলার দুষ্কৃতীদের জন্যে আলাদা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘অপারেশন ক্লিন’ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে খবর।